২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১২:২৯
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অন্যায্য’ অবরোধের প্রতিবাদে রাস্তায় ইরাকিরা+ভিডিও

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর দেশটির বিমান চলাচল খাতে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইরানি বিমান চলাচল বন্ধে বাগদাদ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বসরায় রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বসরা প্রাদেশিক পরিষদের চেয়ারম্যান খালাফ আল-বদরান এবং স্থানীয় একদল কর্মীও অংশ নেন। তারা ইরানের ওপর আরোপিত এই ‘অন্যায্য অবরোধের’ নিন্দা জানান।

বিক্ষোভকারীরা ইরানের পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দেন, “আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ হওয়া উচিত নয়। ইরানি ফ্লাইট চালু না হলে অন্য কোনো বিমানকেও অবতরণের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।” একইসঙ্গে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্তে ইরাকি কর্মকর্তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, ইরাক ও ইরানের মধ্যে স্বাভাবিক বিমান চলাচল পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত তারা দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে বিক্ষোভ করবেন। তারা আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানী বাগদাদ এবং পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় একই ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ২৭টি এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একইসঙ্গে সতর্ক করে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এসব এয়ারলাইন্সের সঙ্গে লেনদেনকারী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিং প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সেবা প্রদানকারীও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এক সরকারি নির্দেশনার পর শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—ইরানের সঙ্গে এখনো ফ্লাইট পরিচালনা করা সর্বশেষ ইরাকি বিমানবন্দর—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানগামী ও ইরান থেকে আসা ফ্লাইট স্থগিত করে।

এর আগে এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সুলাইমানিয়াহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। কিরকুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও জানায়, ইরানের সঙ্গে তাদের কোনো ফ্লাইট নেই।

তেহরানে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আল-হাজ্জাজ জানিয়েছেন, ইরাক ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক করতে বাগদাদ ব্যাপক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

হাজ্জাজ দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ‘সাময়িক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এর ফলে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha